Official Website of Kolkata Municipal Corporation
 
۩   প্রথম পাতা
 
মহানাগরিকের কার্যালয় থেকে

কলকাতা পৌরসংস্থা আপনার প্রিয় এই শহরের ৪৬ লক্ষেরও বেশি স্থায়ী নাগরিক এবং কর্মসূত্রে আগত ৬০ লক্ষাধিক জনগণের সেবায় সতত নিয়োজিত। এতদিন ধরে প্রশংসনীয় উন্নয়ন এবং পরিষেবা প্রদান করার পরেও আত্মসন্তুষ্টির কোনও অবকাশ নেই বরং মনে করি, আরও উন্নয়ন এবং সর্বোন্নত পরিষেবা প্রদানের সুযোগ রয়েছে। আমাদের প্রিয় শহর কলকাতার শ্রীবৃদ্ধির জন্য মহতী স্বপ্ন দেখার এটাই প্রকৃষ্ট সময়। কলকাতার মতো ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং উত্তরাধিকার সমৃদ্ধ শহর, জীবনযাত্রার মানের নিরিখে ‘বিশ্বমানের শহর’-এর পংক্তিভুক্ত হতে পারে। আমরা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু পূরণযোগ্য লক্ষ্য নিয়ে ঈপ্সিত যাত্রা শুরু করেছি।


কলকাতার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাওয়া চাহিদা এবং প্রত্যাশা পূরণে কলকাতা পৌরসংস্থা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে নগর পরিকাঠামোর উন্নতি এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বড় বড় পরিকল্পনা রূপায়ণের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে, যাতে আরও বেশি করে এবং সুষ্ঠুভাবে নাগরিক পরিষেবা দেওয়া যায়। এখন আমাদের পানীয় জল উৎপাদন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, উদ্যান সংরক্ষণ এবং শহরের সবুজায়নের মতো যে ক্ষেত্রগুলিতে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলির সাফল্যকে সংহত করে নাগরিকদের কাছে পৌছে দেওয়ার কাজে মনোযোগী হওয়ার সময়। সেই সঙ্গে যে সব ক্ষেত্রে এখনও মৌলিক সমস্যা সমাধানের কাজে হাত দেওয়া যায়নি, সেই সব ক্ষেত্রগুলি এখন আমাদের আশু কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।


একটি বড় অনুষঙ্গ হল, সমজাতীয় বা একই পৌর কাজে সাহায্যকারী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থার সংখ্যাধিক্য। সে কারণে প্রকল্পের প্রতি সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করা যাচ্ছে না। ফলস্বরূপ নাগরিকমনে সংশয় তৈরি হওয়া ছাড়াও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কোনও কাজের সুচারু সম্পাদন কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা বিশ্বাস করি – কলকাতা শহরে এর গুরুত্ব, আয়তন, এবং সমস্যার জটিলতার কারণে বৃহত্তর কর্মপরিধি ও অধিকতর ক্ষমতাসম্পন্ন পৌরসংস্থা প্রয়োজন, যার দ্বারা নাগরিকদের দৈনন্দিন চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। নির্বাচিত স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধির এই ভাবনা ৭৪ তম সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


আরও একটি বড় অনুষঙ্গ হল, এশীয় উন্নয়ন তহবিল-এর (এ ডি বি) সহায়তায় কলকাতা পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প (কে ই আই পি) এবং জওহরলাল নেহরু নগরোন্নয়ন প্রকল্প (জে এন এন ইউ আর এম) সহ বিভিন্ন সংস্থার সাহায্যপ্রাপ্ত বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর রূপায়ণ। আমরা সদা সতর্ক, যাতে এই ধরনের কাজগুলি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে নাগরিক চাহিদা পূরণে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রত্যাশিত হয় এবং বিধিবদ্ধ সময়ের মধ্যে শেষ হয়।


আমরা আরও চাই যে, সমস্ত উন্নয়নকার্যের রূপায়ণে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিতে এবং এর সুফলগুলি সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। সেই কারণেই বস্তি ও সংখ্যালঘু উন্নয়নসহ সমস্ত সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একইভাবে মশক নিবারণ, নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতার উন্নতি সহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজে নজর দেওয়া হয়েছে।


পরিশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি বলতে চাই তা হল – আমরা কোনোমতেই সমৃদ্ধির পথে উত্তরণের দায়ভার নাগরিকদের ওপর চাপাতে চাই না। আমরা প্রত্যয়ী – করবৃদ্ধির পরিবর্তে কর ব্যবস্থাকে সরলীকৃত ও সুসমঞ্জস করে তোলার মধ্য দিয়ে পৌরসংস্থা তার আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম। তাই এমনই এক আধুনিক এবং সরল কর ব্যবস্থার প্রণয়নে উদ্যোগী হয়েছি, যা আরও বেশি কার্যকরী হবে এবং দুর্নীতির মূলোচ্ছেদ করবে।


আমরা তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিন প্রশাসন মাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বচ্ছ ও সংবেদী নগর প্রশাসন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের পৌর প্রতিনিধিগণ এবং আধিকারিকগণ উন্নততর পরিষেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন জনসংযোগে ব্রতী রয়েছেন এবং তাদের কার্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য আপনি সর্বদাই স্বাগত।


কলকাতার নাগরিক সাধারণের আশীর্বাদ নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি এবং আন্তরিকভাবে সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি। কারণ আপনাদের সক্রিয় সাহায্য এবং অংশগ্রহণ ছাড়া এই শহরকে বিশ্বের সেরা শহরগুলির স্তরে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।



শোভন চ্যাটার্জী
কলকাতার মহানাগরিক